পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জটিলতার দিকে: সন্তু লারমা

সরকার কেবল পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে টালবাহানা নয়, একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের দোহাই দিয়ে চুক্তিবিরোধী ও পাহাড়িদের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) এ কথা বলেছেন।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেলা ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলন হয়। আয়োজনে ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

সন্তু লারমা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে শাসকগোষ্ঠীর কালক্ষেপণের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের যে চক্রান্ত চলছে, তা কখনোই দেশের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। পাহাড়ি জনগণ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে যেকোনো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে। এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।

সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেএসএসের ঘোষণা করা ১০ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে হরতাল, জল ও স্থলপথ অবরোধ, পর্যটন বর্জন, অবৈধ পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন প্রতিরোধ, আদালত বর্জন ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, চুক্তির কয় দফা বাস্তবায়ন করা হলো আর কয় দফা হলো না, এমন সংখ্যার হিসাব করা উচিত নয়। চুক্তির যে মৌলিক চেতনা, তা ধরে রাখা দরকার। এ জন্য চাই পাহাড়ি মানুষের ক্ষমতায়ন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জেএসএসের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা।